বর্তমানে প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির এই যুগে ওয়েবসাইট চিনেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। বর্তমানে অধিকাংশ কাজই অনলাইনে হচ্ছে। যেমনঃ কেনাকাটা, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন ইত্যাদি। সবগুলো বলতে গেলে লেখার শেষ হবে না।
এমনকি আপনি যে কোন বিষয়ে দক্ষ এটা প্রমাণ করতে হলেও অনলাইনের দ্বারস্থ হতে হয়। আর আপনার দক্ষতা প্রমাণের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট।
আপনি একটি নতুন প্রতিষ্ঠান শুরু করেছেন, তার জানান দিতেও একটি ওয়েবসাইট প্রয়োজন। এখন আপনি আমাকে উল্টো প্রশ্ন করতে পারেন "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকতে ওয়েবসাইট কেন দরকার?"
উত্তরটি হলোঃ "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সমূহে আপনি আপনার ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবেন না। যেমনঃ ধরুন আপনার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।আপনি চাচ্ছেন কোন ঝামেলা ছাড়াই আপনার প্রতিষ্ঠানের পণ্যগুলো মানুষ অনলাইনে কিনুক। এক্ষেত্রে আপনি যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (উদাহরণস্বরূপঃ ফেসবুক) ব্যবহার করেন তবে এ কাজটি করা সম্ভব নয়।
কারণ ফেসবুক তার নিজস্ব অ্যালগরিদমে তৈরি করা। আর আপনি চাইলেও এই অ্যালগরিদম পরিবর্তন করতে পারবেন না। কিন্তু আপনার যদি একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকে, সেটার মালিকানা কিন্তু আপনার। আপনি চাইলেই ওয়েবসাইটিকে নিজের ইচ্ছেমতো নিয়মে চালাতে পারেন, অ্যালগরিদম পরিবর্তন কিংবা পরিমার্জন করতে পারবেন।
অনলাইনে পণ্য বিক্রির কাজটি যদি আপনি আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইটে করেন তবে এমন একটি এলগরিদম তৈরি করতে হবে যাতে করে ক্রেতারা তাদের পছন্দমত পণ্য অনলাইনে খুজে নিতে পারবেন, অনলাইনে অর্ডার করতে পারবেন, অনলাইনেই বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
এতে করে আপনার ও ক্রেতার সময় এবং শ্রম দুটোই সাশ্রয় হবে।
কিন্তু একই কাজ ফেসবুকে করতে গেলে আপনার পণ্যগুলোর বিস্তারিত বিভিন্ন পোস্টে উল্লেখ করতে হবে। এতে করে প্রতিটি পণ্যের জন্য একেকটি পোস্ট করতে হবে অথবা একটি পোস্টে অনেকগুলো পণ্যের বিবরণ দিতে হবে। যা দেখতে খুবই দৃষ্টিকটু এবং এত এত পোস্টের ভিড়ে ক্রেতার পছন্দের পণ্য খুঁজতে বেশ বেগ পেতে হয়।
কিন্তু এই কঠিন কাজটিই ওয়েবসাইটে অনেক সহজ এবং সুচারুরূপের সম্পাদন করা যায়। পণ্যের জন্য একটি পেজ তৈরি করতে পারেন, পণ্যসমূহ ক্যাটাগরি ভেদে পোস্ট করতে পারেন, প্রতিটি পণ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট ট্যাগ রাখতে পারেন এবং প্রতিটি পণ্যের অনন্য একটি লিংক তো রয়েছেই; যা খুব সহজেই ক্রেতাকে পণ্য খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
এবার আসুন অনলাইন অর্ডারের বিষয়ে। ফেসবুকে কোন পণ্য অর্ডার দিতে গেলে হয় ওই পোস্টের কমেন্ট করতে হয় নতুবা মেসেজ দিতে হয়। তারপর পেজের এডমিন/মডারেটরদের কেউ মেসেজটি দেখে এবং আপনার সাথে যোগাযোগ করে।
এখানে বেশ কয়েকটি ধাপে কাজটি সম্পন্ন করতে হয়। ধাপসমূহ নিম্নরূপঃ
- প্রথমে ক্রেতারা মেসেজ বা কমেন্ট করবেন।
- পেজের এডমিন বা মডারেটররা দেখে রিপ্লাই দিবে।
- ক্রেতাকে তার পছন্দের পণ্যের নাম এবং তিনি কি রকম পণ্য চাচ্ছেন বিস্তারিত জানতে চাইবেন।
- ক্রেতা টাকা পরিশোধ করবেন; তারপর আপনি তার কাছে ট্রানজেকশন আইডি চাইবেন।
- তারপর আপনি চেক করবেন ওই ট্রানজেকশন আইডি থেকে টাকা এসেছে কিনা
- এবং সর্বশেষ আপনি অর্ডার নিশ্চিত করবেন।
- ক্রেতাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। (একবারের জন্যই)
- পছন্দমত পণ্যের নিচে থাকা "অর্ডার করুন" বাটনে চাপ দিবে।
- তারপর পেমেন্ট করুন বাটনে চাপ দিয়ে টাকা পরিশোধ করে দিবে।
- কাজ শেষ।
এখন অনেকে আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন- "শিখাতে এসেছেন এইচটিএমএল আর বকবক করছেন ওয়েবসাইট সম্পর্কে; এর কারণ কী?"
এর কারণ আছে বৈকি! যখন আপনি কোন বিষয় শিখবেন তখন জানতে হবে তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে; তবেই না আপনি শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ পাবেন।
আর সব কথার শেষ কথা জেনে রাখুন; ওয়েবসাইট তৈরির মূল ভিত্তি হলো এইচটিএমএল। এইচটিএমএল না জানলে কোন মতেই ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব নয়। আমরা পরবর্তী পোষ্টের থেকে এইচটিএমএল শেখানো শুরু করব।
কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আমাদের সাথে আপনার পথচলা সুন্দর হোক; শুভকামনা রইলো।
আমাদের লেখাগুলো ভালো লাগলে ওয়েবসাইটের লিংক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন।
0 মন্তব্যসমূহ
মন্তব্য করতে পারেন এখানে...